রংপুরে ‘নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার’ সেমিনার অনুষ্ঠিত
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জানানো হলো সাইবার দুনিয়ায় সুরক্ষিত থাকার কৌশল। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে, অনুষ্ঠিত ‘নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার’ সেমিনারে যোগ দিয়ে ডিজিটাল দুনিয়ার সতর্কতা বিষয়ে জানেন তারা।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহায়তায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি ও রংপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী সেমিনারের শুরুতেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সেমিনার উপকরণ ও সাইবার নিরাপত্তার লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি পঙ্কজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার উত্তম কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার শাহরীন তিলোত্তমা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো: কামরুজ্জামান এবং আলোচক হিসেবে সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাদাত রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার শাহরীন তিলোত্তমা সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের/সরকারের সাথে কোলাবরেশনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায় ও আইনি সহায়তা প্রদানে ইউএনডিপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রত্যেককে সাইবার জগতে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাল, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্ক্রিন আসক্তি পরিহার করে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পুলিশ পরিচালিত নারীদের সাইবার অপরাধে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন এর সাপোর্ট নিতে আহ্বান করেন। পাশাপাশি অপরিচিত কাউকে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংঘঠিত বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি পঙ্কজ চন্দ্র রায় সমাজের সকল স্তরে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে তুলে ধরেন এবং কিভাবে সাইবার স্পেসে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায় বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক স্মার্ট বাংলাদেশের ৪টি স্তম্ভ নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, একজন নিয়মানুবর্তী শিক্ষার্থী নিজেকে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। ইন্টারনেট ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। পারিবারিক মূল্যবোধই একজন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে অপরাধ জগৎ থেকে দূরে রাখতে পারে। এছাড়া, নতুন পাশকৃত সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর প্রয়োজনীয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাদাত রহমান তার আলোচনায় সাইবার বুলিং এর বিভিন্ন উদাহরণ উপস্থাপন করে তা প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরেন এবং কিশোর-কিশোরীরা সাইবার বুলিং এর শিকার হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনকৃত হটলাইন নম্বর ১৩২১৯ এ অবহিত করতে বলেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কুইজ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীগণ সাইবার বুলিং, সাইবার নিরাপত্তা, সচেতনতা প্রচার প্রচারণা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, আলোচকবৃন্দ এবং এনসিএসএ’র কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণকারীদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।







